নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেছেন, একটা সময় ছিলো যখন ইসলমি শিক্ষাই ছিলে সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। ইসলামের সেই সোনালী যুগের পন্ডিত ও মনিষী ইবনেসিনা, ইমাম গাজ্জালীসহ মুসলিম দার্শনিকরা আমাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তারা যেমন জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ ছিলেন, তেমনি তারা কোরআনের হাফেজ ছিলেন।
তাদের দেখানো পথকে অনুস্মরণ করে সমাজকে আলোকিত করার জন্য ইসলামী শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ঘটাতে হবে। কারণ আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সব জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। মাদ্রাসার শিক্ষাথীরা যদি আজকে থেকে সিরিয়াস হয় জগৎ বিখ্যাত আলেম হবেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্র আলোকিত হবে অবশ্যই তা সম্ভব হবে।
তিনি শনিবার (৩ জানুয়ারী) সকালে সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ ‘ছহিফাগঞ্জ সুলতানিয়া আলিম মাদ্রাসা’র দুই দিনব্যাপী শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন। তিনি আরোও বলেন, আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা হচ্ছে সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা। তাদের সাথে কথা বললে বুঝতে পারবেন তাঁর মধ্যে পারিবারিক জ্ঞান আছে, রাজনৈতিক জ্ঞান আছে, অর্থনৈতিক জ্ঞান আছে, দ্বীনি জ্ঞান আছে। আপনাদের সন্তানদেরকে মাদ্রাসায় পড়ান। এতে দুনিয়ায় সম্মানিত হবেন, ইনশাআল্লাহ পরকালেও সম্মানিত হবেন। আমরা মাদ্রাসায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হয়েছি। আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে অনেক সম্মানিত করেছেন। সম্মান মানে শুধু টাকা পয়সা না, গাড়ী-বাড়ি না।
এর পূর্বে সকালে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে শতাধিক রঙ্গিণ বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দিনব্যাপী শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন হাফিজ ক্বারী মাওলানা নাসিম আহমদের কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালায় আলোচনা সভা, প্রয়াত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মরণ, শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্মারক ‘আল-আযহার’র মোড়ক উম্মোচন, প্রায় ৯০ জনকে মরনোত্তর পদক প্রদান, স্মৃতিচারণ, ইসলামি সংগীত পরিবেশন’সহ নানান আয়োজনে ব্যস্থ দিন অতিবাহিত করেন আগত অতিথি, শিক্ষার্থীসহ সূধিজনেরা।
শতবর্ষ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পল্লী এলাকায় দিনব্যাপী উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। দেশের বিভিন্ন জেলা এবং প্রবাস থেকেও এসে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। প্রায় সহস্রাধিক প্রাক্তণ-বর্তমান শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মাদ্রাসা ক্যাম্পাস এক মহা-মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ও শেষ দিন রোববার (৪ জানুয়ারী)’ও সাজানো হয়েছে দিনব্যাপী নানান আয়োজনে।
মাদ্রাসার শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের আহবায়ক ও অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক মাসুম জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো. নুরুল হক, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি তাহেরা নুসরাত জাহান চৌধুরী, প্রাক্তণ শিক্ষক জমির উদ্দিন আনসারী, লাউয়াই আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রওনক আহমদ, গোবিন্দগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আজিজ, কামালবাজার ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামরুজামান চৌধুরী, সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম মনোত্তর আলী, বর্তমান সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুস সালাম সালেহিন, সিরাজ উদ্দিন আহমদ একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক মকব্বির আলী।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন ১৯৯৪ ব্যাচের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী ও লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য আব্দুল বাছিত রফি, ১৯৯৬ ব্যাচের শামছুল ইসলাম, ২০১৮ ব্যাচের আতাউর রহমান ও ২০২২ ব্যাচের হাসান আহমদ। অনুষ্ঠানে সগীত পরিবেশন করে সিলেটের নিসর্গ শিল্পী গোষ্ঠির সদস্যবৃন্দ।
এসময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, বিশ্বনাথ উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার আব্দুল হামিদ, সৎপুর কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা সালেহ আহমদ, বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা নাজিম উদ্দিন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টি বসির উদ্দিন, হাছন খান, সোলেমান খান, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, সাবেক সভাপতি তজম্মুল আলী রাজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ নূর উদ্দিন, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের আহবায়ক মশিউর রহমান, সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বেগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্বাস হোসেন ইমরান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।